আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের জগতে জাফর পানাহি র নাম শোনে নি এরকম চলচ্চিত্র প্রেমী সত্যিই বিরল। দ্যা সার্কেল, ক্রিমসন গোল্ড, দ্যা হোয়াইট বেলুন, দিস ইজ নট এ ফিল্ম, ট্যাক্সি এই সব ছবি গুলি শুধুমাত্র সিনেমার ইতিহাসে এক একটি মাইলফলক ই নয়, সমকালীন সমাজ ও রাজনীতির এক দার্শনিক প্রতিফলনও বটে। আব্বাস কিয়েরোস্তামির পর বিশ্ব চলচ্চিত্র মানচিত্রে ইরানের নাম যে মানুষটি স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করেছেন সেই জাফর পানাহি কে আজ ছয় বছরের দীর্ঘ কারাবাস এর হুকুমজারি করেছে ইরানের উচ্চ আদালত।
ইরানের এক মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে গত সপ্তাহে সহ ফিল্ম মেকার মহম্মদ রসৌলফ ও মোস্তফা আল আহমেদ এর খবর নিতে তেহরান এর প্রসিকিউটর এর অফিসে গিয়েছিলেন পানাহি । এই দুইজন সোশ্যাল মিডিয়াতে রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট করার অপরাধে জেলে আছেন। যদিও পোস্টটি কতখানি রাষ্ট্র বিরোধী সেই নিয়ে যথেষ্ট সংসার অবকাশ আছে কারণ ইরানের একটি দশতলা বাড়ি ভেঙে চল্লিশ জনের ও বেশী মৃত্যু হয়, এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি সমালোচনামূলক পোস্ট দেন রসৌলফ, এবং এই অপরাধেই (“inciting unrest and disrupting the psychological security of society”) তাঁর জেল হয়।
যদিও ইরানের কট্টর ইসলামপন্থী সরকারের সমালোচক হিসাবে রাষ্ট্রের হাতে পানাহি র এটাই প্রথম অ্যারেস্ট নয়, এর আগেও ২০১০ সালে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কারাবাসের হুকুম দেয় ইরান সরকার। এবং তার বিদেশ ভ্রমণ ও সিনেমা নির্মাণের উপরেও নিষেধাজ্ঞা লাগানো হয়। যদিও আইনের ফাঁক তাল দিয়েই চলচ্চিত্র নিয়ে বিভিন্ন রকম এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে যাচ্ছিলেন ষাটোর্ধ যুবক ফিল্মেকার জাফর পানাহি ।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বি বি সি নিউজ কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে পানাহি র স্ত্রী বলেন “Jafar has some rights as a citizen. There’s due process. To imprison someone, they need to be summoned first. But to imprison someone who is protesting outside the jail raises a lot of questions. This is a kidnapping”
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি সহ আপামোর চলচ্চিত্র প্রেমীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছেন। কিন্তু সে ব্যাপারে সামান্য কর্নপাত করতে রাজি নয় ইরান সরকার… প্রতিবাদীদের রক্তচক্ষু দেখিয়ে, হাজতে পুরে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা জারি আছে, তবে ইতিহাসের পাতা উল্টালেই তারা হয়তো বুঝতে পারবেন যে এভাবে শোষণের ছাই চাপা দিয়ে মুক্ত চেতনার আগুন নেভানো যায় না, উল্টে সেই ছাই থেকেই জন্ম নেয় বিপ্লবের ফিনিক্স পাখি।

