ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি মানেই পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু বর্ষাকালে অনেকেই ঘরের বাইরে বেরোতে চান না। অথচ যদি বর্ষাকালে পড়ে যায় একটা লম্বা উইকেন্ড… তাহলে?
কি? কোথাও একটা বেরিয়ে পড়তে মন চাইছে তাই তো? কিন্তু কোথায়? বেরোনোর কথা উঠলেই প্রতিটা বাঙালির মনে যে তিনটে নাম সবার আগে উঠে আসে তা হলো দীঘা, পুরি আর দার্জিলিং… এগুলো নিঃসন্দেহে ক্লাসিক…. কিন্তু টা বলে প্রতিবারই এই তিনটে না ভেবে, নতুন কোথাও একটা গেলে দেখবেন ভালই লাগবে।
আর চিন্তা নয়… আমরা দেবো খোঁজ, কলকাতার কাছেই টুক করে ঘুরে আসা যায় এমন পাঁচটি ঠিকানার…
জুনপুট
সারা সপ্তাহের ধকল থেকে এক নিমেষে মুক্তির জন্য দরকার একটু নিঃসঙ্গ নির্জনতার। যাকে কবি ভালবেসে ‘ব্লিস অফ সলিটিউড’ বলেছেন আর কি… ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে নিঝুম ঝাউ গাছ আর মনোরম সমুদ্র মিশে যেন ঠিক ওই রকম ই একটা ম্যাজিক সৃষ্টি করে পূর্ব পূর্ব মেদিনীপুরের এই ছোট্ট অথচ মনোরম সমুদ্র সৈকতটি। কলকাতা থেকে মাত্র ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দীঘা, মন্দারমণি বা বকখালির মত পপুলার হয়তো নয়.. কিন্তু এখানেই লুকিয়ে এর ম্যাজিক। কারণ জুনপুটে আপনি পাবেন নিজেকে খুঁজে পাওয়ার নির্জনতা। তাই একলা অবসর হোক বা রোম্যান্টিক আউটিং। জুনপুট হয়ে উঠুক আপনার নেক্সট মাস্ট ভিসিট ডেস্টিনেশন।
মঙপঙ
পাহাড়ি তিস্তা নদীর বুকে, মহানন্দা ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারির কোলে অবস্থিত মঙপঙ কে বলা হয় ডুয়ার্স এর প্রবেশদ্বার। শিলিগুড়ি শহর থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে জঙ্গল আর নদীতে ঘেরা মঙপঙ বন্ধু দের বা পরিবার কে নিয়ে একটা উইকেন্ড কাটিয়ে আসার আদর্শ ডেস্টিনেশন। পক্ষীপ্রেমীদের জন্যও মঙপঙ একটি আদর্শ ঘুরে আসার জায়গা কারণ মধ্যএশিয়া বা চীন থেকে এখানে বিভিন্নরকম পরিযায়ী পাখি উড়ে আসে তিস্তার চরে। মঙপঙ এ হোটেল ছাড়াও নানা রকম হোম স্টে এর ব্যবস্থা আছে, তিস্তা নদীর মনমাতানো দৃশ্য তো আছেই, তা ছাড়া এখন কার হোম স্টে গুলোর স্থানীয় হোমমেড রেসিপি গুলি দূর দূর থেকে খাদ্য রসিক দের টেনে আনে মঙপঙ এ।
মুকুটমণিপুর
কলকাতা থেকে মাত্র ২২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছোটছোট পাহাড় আর হ্রদে ঘেরা মুকুটমণিপুর আপনার উইকেন্ড ট্যুর কে দেবে এক অন্য মাত্রা। বাঁকুড়া শহর থেকে কিছুটা দূরে কংসাবতী আর কুমারী নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত মুকুটমণিপুর ব্রিটিশ আমল থেকেই বাঙালির একটি অন্যতম প্রিয় নির্জন পিকনিক স্পট। ইদানিং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভালো হয়ে যাওয়ায় কলকাতা থেকে লং ড্রাইভে পরিবার ও প্রিয়জনকে নিয়ে বেরিয়ে আসতেই পারেন এখানে। ৮৬ বর্গমিটার সুবৃহৎ ঝিল এর পাড়ে মনোরম এই ডেস্টিনেশন এক নিমেষে আপনার পুরো সপ্তাহের কর্মক্লান্তিকে লাঘব করে দেবেই।
গজোলডোবা
শিলিগুড়ি শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে গজোলডোবা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ উইকেন্ড ডেস্টিনেশন। আশপাশের জঙ্গল ও পাহাড়ে ঘেরা গজোলডোবা তে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শুরু করেছে একটি মনোরম প্রকল্প যার নাম – ‘ভোরের আলো’ … এই প্রকল্পটির চারপাশে বিস্তীর্ণ খালি জায়গা যেন এক অনাবিল শূন্যতার মাঝে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ দেয়। অদূরে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও তিস্তানদী গজোলডোবা এর আনন্দভ্রমণে এক উৎসেচক এর কাজ করে। এছাড়া পরিযায়ী পাখিদের জন্য শীতকালে সুবিস্তীর্ন গজোলডোবা হয়ে ওঠে পক্ষীপ্রেমীদের মাস্ট ভিসিট ডেস্টিনেশন।
গড় পঞ্চকোট
প্রকৃতির বুকে ইতিহাস এর সাক্ষী হয়ে থাকা গড় পঞ্চকোট এখনো অনেক ভ্রমন পিপাসুর কাছে অচেনা। পাঞ্চেত পাহাড়ের কোলে গড় পঞ্চকোট কেল্লা আজও নীরবে শুনিয়ে যায় আঠেরোশো শতকে বর্গী আক্রমণের ভয়াবহ কাহিনী। কলকাতা থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে পুরুলিয়া তে দামোদর নদীর পাঞ্চেত বাঁধ আর মনোরম সবুজে ঘেরা গড় পঞ্চকোট আর ইতিহাস প্রাচীন পঞ্চরত্ন মন্দিরের অবশেষে, আপনার নির্জন নিরিবিলি উইকেন্ড ট্রিপ এর ইচ্ছা কে করে তুলবে সার্থক।

